বেসরকারি এক নার্সিংহোমের সহায়তায় প্রাণ ফিরে পেল দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত একটি মেয়ে। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা সুলেখা খাতুন(১৪)। দীর্ঘদিন ধরেই পেটের ব্যাথা নিয়ে অসুস্থ ছিল সে। কয়েকদিন আগে তার পরিবার তাকে মালদা শহরে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসে। চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর দেখে তার পেটের ভেতরে ডিম্বাশয়ের ডান দিকে বিরাট আকারের একটি টিউমার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টিউমারটি থাকায় সেটিতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল বলে জানান চিকিৎসকেরা। চিকিৎসার জানান এর একটায় উপায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু মালদা জেলায় যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে এধরনের অস্ত্রোপচার এর আগে হয়নি।এছাড়াও এই অস্ত্রোপচারের জন্য কম করে ২লক্ষ টাকা প্রয়োজন।আর এই টাকার অঙ্কের কথা শুনেই মাথায় হাত পরে যায় ওই রোগীর পরিবারের সদস্যদের। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকে সেই পরিবার। এই অবস্থায় তারা যোগাযোগ করে মালদা শহরের সদরঘাট এলাকার এক বেসরকারি হাসপাতালের মালিক সঞ্জয় শর্মার সাথে। এরপরেই সঞ্জয় বাবু উদ্যোগ নিয়ে শহরের দুই বিশিষ্ট চিকিৎসক সোহম চৌধুরী ও রাজমহল ঘোষের সাথে কথা বলেন। সে চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন তার নার্সিংহোমে বিনাপারিশ্রমিকে যাতে ওই রোগীর অস্ত্রোপচার করেন। তাতে রাজি হয়ে যায় ওই দুই চিকিৎসক। মঙ্গলবার ওই রোগীর শরীরের অস্ত্রোপচার করা হয়।
চিকিৎসক সোহম চৌধূরী বলেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। ওই রোগী এখন সুস্থ রয়েছেন। এধরনের অস্ত্রোপচার আগে মালদাতে হয় নি।
ওই রোগীর আত্মীয় ইমরান আলী বলেন, আমাদের যা আর্থিক অবস্থা তাতে আমাদের পক্ষে এধরনের অপরাশেন করানো সম্ভব হত না। হাসপাতালের মালিক ও চিকিৎসকরা বিনা অর্থে আমাদের যে পরিষেবা দিয়েছে। তার জন্য তাদের কাছে কৃতঞ্জ থাকবো।
সঞ্জয় বাবু বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটি বার্তা দিয়েছেন প্রত্যেক বেসরকারি হাসপাতালের সামাজিক দ্বায়িত্ব রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেননায় অনুপ্রেরিত হয়ে বিলের কথা না ভেবে তিনি প্রথমে ভেবেছেন কি করে বাচ্চা মেয়েটির প্রাণ রক্ষা করা যায়।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দিলীপ মন্ডল বলেন, প্রত্যেক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সামাজিক কর্তব্য থাকে। এই প্রতিষ্ঠান তার কর্তব্য পালন করায় আমরা খুশি।